কবিতা যত

এ আমার অহংকার
মাসুদা সুলতানা রুমী

নারী হয়ে জন্মেছি
এ আমার অহংকার
তোমার সকাশে শুকরিয়া প্রভু
শুকরিয়া লাখবার।

আমার গর্ভেই জন্ম নিয়েছে
বিশ্বের যত নবী
আঁখী মুদলেই মনের মুকুরে
ভেসে ওঠে সেই ছবি।

পিতা বিহনে পুত্র পেয়েছি
আমি মাতা মরিয়ম।
মাতা ছাড়া সন্তান হয়েছি কি কভু?
আছে কি কোথাও এ নিয়ম?

মুসার মাতা আমি
পুত্রকে বাঁচাতে ভাসিয়ে দিয়েছি জলে
আমিই ভগ্নি মুসার, ভাইয়ের প্রতি
দৃষ্টি রেখে, হেঁটেছি নদীর কুলে।

আছিয়া আমি, শিশু মুসা নবীকে
দিয়েছি বুকে ঠাঁই।
মুসা (আঃ)-এর জীবন বাঁচাতে
পুরুষের অবদান নাই।

আমি নারী যুগে যুগে করেছি
বিশ্বের যতো কল্যাণময় কাজ
তাই এ হৃদে নেই কোনো ভয়
দ্বিধা-দ্বনদ্ব সংশয়-শংকা লাজ।

আমি খাদিজাতুল কুবরা
বিশ্ব নবীর উদাত্ত আহবানে প্রথম দিয়েছি সাড়া
সমাজের যতো জ্ঞানী গুণী জন
অনেক পরে এসেছেন তারা
সঞ্চিত যতো ধন ছিল আমার
এই পৃথিবীর পরে
ভালোবেসে সব সঁপে দিয়েছি
প্রিয় নবীজির তরে।

সুমাইয়া আমি
ইসলামের তরে প্রথম দিয়েছি প্রাণ
আমিই পেয়েছি প্রথম শহীদের
সীমাহীন সম্মান।

আমি ফাতিমা-তুজ-জোহরা
বিশ্ব দুলালী নারীকুল শিরোমনি
নবী নন্দিনী, শহীদ জননী
ফেরদৌসের মহারাণী।

আমি আয়েশা, রাসূল প্রেয়সী
উম্মুল মুমিনিন
আমার বুকেই মাথা রেখে
নবীজী শেষ ঘুম ঘুমালেন।

আমার চরিত্রের প্রশংসাপত্র
দিলেন খোদ আল্লাহ পাক
আমার যশ দেখে সপ্ত আসমান
সপ্ত জমিন হল নির্বাক।

আমি উম্মে সালমা, হুদায়বিয়ার সন্ধির
দিনে, এলেন নবীজি-আমার কাছে
বিচলিত হয়ে ডাকলেন
উম্মে সালমা বলো এখন বিহিত কি কিছু আছে?

সাহাবীরা যে যার মতো
মানছে না আমার কথা
বল্লাম তাঁরে বিনয় স্বরে
নিজ কুরবানী নিজেই দিয়ে মুড়ান আপন মাথা
আমার কাছে পরামর্শ চেয়ে
দিলেন নবীজী নারীকে সম্মান
তাই বলে তার নবুয়তী
হয়েছে কি কিছু ম্লান?

আমি উম্মে আম্মারা
ভয়াবহ সেই ওহুদের প্রান্তরে
নবীজীকে বাঁচাতে
বুকের রক্ত ঢেলেছি অকাতরে।

উম্মে হাকাম আমি
আবু জেহেল পুত্র বধু
কাফের ইকরামার কণ্ঠে
তুলে দিয়েছি ঈমানের সুমিষ্ট সচ্ছ মধু।

আমি মুসলিম নারী নই অবলা
ইসলাম দিয়েছে আমায় অযাচিত অজস্র সম্মান
আমার দাওয়াতেই
বনী চেঙ্গিস হয়েছে মুসলমান।

অকাতরে আল্লাহর রাহে
দিয়েছি পাঠিয়ে স্বামী-সন্তান ভাই।
পুরুষের কথা ইতিহাসে আছে
আমার কথা কি নাই?

পুরুষ শাসিত সমাজে
আমি এক অসহায় নারী
পুরুষের তরে এ কঠিন অপবাদ
আমি কি করে দিতে পারি?

আমি কন্যা, জায়া, ভগ্নী পুরুষের
পুরুষেরই সম্মানিত মাতা
আমার পক্ষে বলা কি সাজে
পুরুষ সম্পর্কে যা-তা?

যা কিছু হীনতা যা কিছু দীনতা
সে আমারই নিজ দোষে
আল্লাহর বিধান ছেড়েছি বলেই তো
পড়েছি প্রভুর রোষে।

হে দয়াময়, মহান প্রভু, স্রষ্টা রহিম রহমান
তুমি চালাও সে পথে, যে পথে ক্ষমা
নেয়ামত অফুরান।